Sunday, March 2, 2014

পেজ থ্রি-র এপিটাফ

আজকাল কোনো সেলিব্রিটি শান্তিতে মরতেও পারছেন না। এমনকি মরেও শান্তি পাচ্ছেন না। লাশ-টি পড়ল কি পড়ল না, মিডিয়া দৌড়ে এলো, ওইসব বিরাট ডাণ্ডা-চোঙা নিয়ে। আর "If media comes, can celebrities be far behind?", সুতরাং পেজ থ্রি লোকজন সাজুগুজু করে চোখে গ্লিসারিন ঢেলে ইতিউতি মুখ দেখাতে ব্যস্ত। সে ঠিকাছে, ওইটা তাদের রুজিরুটি, ওইসব তাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে বোধহয়, বা তারা সবাই ওই মৃত/মৃতার শুভাকাঙ্ক্ষী, দেখতে এসেছেন বৈতরণীর পানসি যে চালায় সে হারামজাদা ভোগা দিয়ে বেশি ভাড়া চাইল কিনা (হ্যাঁ, আমার দৃঢ় বিশ্বাস এই যে এইসব লোকজনের দৃঢ় বিশ্বাস তাদের ঠকানোর জন্য সব গরিব জোট বেঁধেছে। সে যাকগে), বা হয়ত পরের দিন শুটিং এ স্বামীপ্রবরটি সপ্তমবার মারা যেতে চলেছেন, তার নেট প্র্যাকটিস। অনেককিছু হতে পারে।

কিন্তু এসব আগেও ছিল, এখনও আছে, এবং থাকবেও।

একটা নতুন জিনিস আজকাল দেখছি। লাশ পরার দিন(যদি রাত ৯টা-১১টা, এই সময় খবর আসে, কারন ওইসময় ফেসবুক-এ সবথেকে বেশি লোক থাকে) বা পরের দিন(সময় বলা নিষ্প্রয়োজন,১১টার পর, যখন আপনি খেয়ে আঁচিয়ে দাঁত খোঁচাচ্ছেন তখন থেকে পরের দিন দাঁত মাজা অবধি যেকোনো সময়) ফেসবুক দুরকম আপডেট এ ভর্তি।

প্রথমত, ও দাদা/দিদি তুমি কোথায় গেলে গো! এই সোনার সংসার তুমি কার হাতে ছেড়ে গেলে গো! আমরা তোমায় ভুলি নি, ভুলবো না! তারপর তার সিনেমার এক কলি গান, দু কলি ডায়ালগ, তিনখানা ছবি, চারখানা কাব্যি এইসব দিয়ে তৈরি একটা জিনিস।

দ্বিতীয়ত, দাদা/দিদি গেছেন তো কি হল? রোজ কিছু লোক মরছে। এরা সালা পেটিবুর্জোয়া, এদের মরাই উচিত-এইসব মন্তব্য এবং তার মাঝে নুন-গোলমরিচ এর মতো ছড়িয়ে দেওয়া "নির্ভয়া-কামদুনি-মধ্যমগ্রাম" এইসব নাম।

মানে কেউ মারা গেলে হয় তাকে নিয়ে আদিখ্যেতা হবে, নয়তো তার মারা যাওয়াকে আরেকটা দূরদূরান্ত অবধি সম্পর্ক নেই এমন একটা জিনিসের সাথে জুড়ে গাল পাড়া হবে। ব্যাপারটা খানিক ওই "চন্দ্রের আকর্ষণে জোয়ার-ভাঁটা হইলে রামকান্তের জজিয়তি হইবে না কেন?" মার্কা হয়ে পড়ছে।

কে জানে আমার আজকাল ক্যানো এইসব মনে হয় সারাক্ষণ! যাকগে, দেখি আজ কোনো লাশ পড়ল কি না। রাত্তিরবেলা আপডেট দেবোখন।

No comments:

Post a Comment