Saturday, August 30, 2014

এলিজি

ফোনটা বাজছে।
বেজেই চলেছে।
দেখলাম, আগুনরূপা কলিং।
কে আগুনরূপা, কার নাম এই বলে সেভ করেছিলাম? এরকম নাম তো হয় না, এরকম নামের কাউকে আমি তো চিনি না। কিন্তু নামটা বড্ড চেনা লাগছে। খুব চেনা। কোথায় শুনেছি? কোনো কবিতায়? না। কবিতা তো আমি লিখি না। ওসব ছন্দ মেলানো বা না মেলানো ন্যাকামো পোষায় নি কোনোদিন। ছন্দ ব্যাপারটা কেমন ঠিক খেয়াল নেই, কিন্তু নিশ্চয়ই খুব খারাপ। কবিতায় শুনেছি হয়তো। কার কবিতা? আমি কি কবিতা পড়তাম আদৌ? কবিতা জিনিসটাও কিরকম ভুলে গেলাম যে! কি হচ্ছে?
ফোনটা এদিকে বেজেই চলেছে। মাথাটা ফেটে যাবে বোধহয় এবার।

দু মাস আগের কথা

- এখানেও এসেছিস?
- কি করতাম? করার মত বাকি কি আছে? তুই বাজে কারনে ঝামেলা করবি, করে বলবি “উই আর ডান”, আমার দিকটা না ভেবে, আমি আসব না কেন?
- আসবি না, আমি বলছি তাই। আমি আর কথা বলতে চাই না। সব কথা, বোঝাপড়া শেষ। তুই যা খুশি বলবি, আর পরদিন ন্যাকাকান্না কেঁদে ভুলিয়ে দিবি, হবে না। আমি পারব না। আর শোন, এখানে আমি ক্লাস করতে আসি। আর ফারদার এখানে আসবি না। আমি বিরক্ত হব।
- ফেরা যায় না? আমার কথাটা ভাব একবার।
- না। আর হয় না। আমি ভালো নেই। খুব হাঁপ ধরে গেছে আমার এই কয়েকমাসে। প্লিজ ছেড়ে দে আমায়।
- আচ্ছা। দরকার হলে ডাকিস। হাত বাড়াস। আমি আছি।
- ন্যাকামো করিস না। বহুবার শুনেছি।
- এটাও ন্যাকামো? তাহলে কিছু বলার নেই। ভালো থাকিস।

দু মাস একদিন আগের কথা।

- আমার সাথে কথা বললেই বাড়ির লোকের গাত্রদাহ হয়? কেন? আমি বেকার বলে? নাকি জেনারেল স্ট্রিমে পড়ি, ফাইভ ফিগার স্যালারি পাবো না বলে?
- আমার ভালো লাগছে না কথা বলতে।
- তা আর ভালো লাগবে কেন? এখন তো অভ্যেস হয়ে গেছে।
- তুই কথা বলার অবস্থায় নেই। রাখছি।
- রাখবি না। শুনতে হবে। আগেও তো প্রেম করতিস। তখন ঝামেলা হত না কেন? আমার বেলাতেই যত.........হ্যালো? হ্যালো? হ্যালো? শুনতে পাচ্ছিস?

চার মাস আগের কথা

- এই কাল আগুনরূপা কবিতাটা পাঠালাম যে? পড়েছিলি?
- হ্যাঁ। প্রবল ন্যাকা।
- তুই কি বুঝিস কবিতার? ন্যাকা? লিখিস তো ওই ছন্দ মিলিয়ে মিলিয়ে কবিতা। বুঝিস?
- না। যত বুঝিস তুই। আমার লেখা কে পড়ে?
- আমি পড়ি। বলেছি তো, দশ বছর, তার মধ্যে আনন্দ পাচ্ছিস।
- মানে?
- আনন্দ পুরস্কার। পাবিই। বেশ লিখিস। লেখার হাত ভালো। হাতের লেখা আরেকটু ভালো হলেই.........
- হাতের লেখা খারাপ আমার?
- বালাই ষাট! খালি আগের দিনের লেখাটা ওষুধের দোকানে নিয়ে গিয়ে পড়াতে হয়েছিল।

দু ঘণ্টা আগের কথা

বুঝতে পারছি না কি হয়েছে আমার। মানে গত দু মাস আমি কি করেছি, বা তার আগেও...দু মাস কতটা সময় খেয়াল নেই যদিও, দু বছর হতে পারে...না না দু বছর আগে তো আরেকজন ছিল...এটা তো...খেয়াল পড়ছে না কতদিন...ধুর কি যে হচ্ছে আমার...আজ লোকজন জিজ্ঞেস করলো দু মাস কলেজ আসছি না কেন, তাই বুঝলাম দু মাসের হিসেব নেই আমার। দু মাস? সবাই আমার সাথে নিশ্চয়ই প্র্যাকটিকাল জোক করছে। দু মাস? গতকালই তো এলাম, কাল রাতেই তো...কি যেন একটা হল রাতে? কিচ্ছু খেয়াল পড়ছে না কেন?

এক ঘণ্টা আগের কথা

আমি আর পারছি না। মা বলল আমি নাকি গত দু মাস ঠিকমত খাইনি, ঘুমোইনি। এই দু মাসের হিসেব আমায় পাগল করে দেবে। সব্বাই কি শুরু করেছে? এত নিষ্ঠুর মজা করছে কেন এরা?

আজ রাতে কি খেলাম খেয়াল নেই। মুখে স্বাদ লেগে নেই।
হাত শুঁকলাম। কোনো গন্ধ পেলাম না। সিগারেট ধরালাম। মাথা ব্যাথা করছে। আশ্চর্য! এখানেও ভেজাল নাকি? গন্ধ পাচ্ছি না কেন? নিকোটিনের চেনা গন্ধ?

এখন, বর্তমান

ফোনটা বাজছে।
বেজেই চলেছে।
দেখলাম, আগুনরূপা কলিং।
কে আগুনরূপা, কার নাম এই বলে সেভ করেছিলাম? এরকম নাম তো হয় না, এরকম নামের কাউকে আমি তো চিনি না। কিন্তু নামটা বড্ড চেনা লাগছে। খুব চেনা। কোথায় শুনেছি? কোনো কবিতায়? না। কবিতা তো আমি লিখি না। ওসব ছন্দ মেলানো বা না মেলানো ন্যাকামো পোষায় নি কোনোদিন। ছন্দ ব্যাপারটা কেমন ঠিক খেয়াল নেই, কিন্তু নিশ্চয়ই খুব খারাপ। কবিতায় শুনেছি হয়তো, কার কবিতা? আমি কি কবিতা পড়তাম আদৌ? কবিতা জিনিসটাও কিরকম ভুলে গেলাম যে! কি হচ্ছে?
ফোনটা এদিকে বেজেই চলেছে। মাথাটা ফেটে যাবে বোধহয় এবার।
আকাশের দিকে তাকালাম। চাঁদ নেই। ঘুটঘুটে অন্ধকারে কয়েকটা তারা তাকিয়ে আছে। অমাবস্যা আজকেই হতে হল?
হঠাৎ চাবুকের মত একটা জিনিস আঘাত করল। আজ বিকেলেই তো মা কে শাঁখ বাজাতে শুনলাম। আশেপাশের সবকটা বাড়িতে শাঁখ বেজেছিল। এখানে মাসে একদিনই সব বাড়িতে শাঁখ বাজে।
পূর্ণিমার দিন।
সেই বিকেল থেকে একটাও শব্দ শুনিনি। ফোনটাও এসেছে বুঝলাম ভাইব্রেট করছিল বলে।
আমি তো ফোন সাইলেন্ট করি না।
ফোনটা দেখলাম। না। সাইলেন্ট নয়।
ছাদে শুয়ে আছি অনেকক্ষণ। জানি না, কি হয়েছে আমার।
ফোনটা বাজছে। আবার। ধরবো। হাতে জোর নেই কোনো।
আকাশের দিকে তাকালাম আরেকবার।
নিকষ কালো আকাশে একটা একটা করে তারা নিভে যাচ্ছে।