Wednesday, December 10, 2014

ষষ্ঠ রিপু

"এক প্রত্যন্ত বনের ক্লিয়ারিং। পূর্ণিমার রাত। একটা লোক একা দাঁড়িয়ে আছে। ক্লিয়ারিঙের মধ্যে দিয়ে অন্ধকার ভেদ করে জ্যোৎস্নার আলো নেমে আসছে। লোকটা একটা সিগারেট ধরিয়ে খাচ্ছে। ধোঁয়াটা ঘুরপাক খেয়ে উঠছে জ্যোৎস্নার আলোর মধ্যে......"
ডক্টর বাসু তাকিয়ে দেখলেন সামনে বসা ভদ্রলোকের দিকে। বয়েস আন্দাজ পঁয়ত্রিশ। মানে তার থেকে বছর কুড়ি কম। এই বয়েসে এইজাতীয় উপসর্গ দেখা যাওয়া অস্বাভাবিক হলেও বিরল নয়। বিশেষতঃ ইনি যে প্রবলেম নিয়ে এসেছেন, রেকারিং স্বপ্নের, সেরকম কেস বহুবার এসেছে তার কাছে। কিছুই না, সামান্য কিছু টক থেরাপি, নার্ভ ঠাণ্ডা রাখার কয়েকটা ওষুধ, আর নিয়মিত ঘুম হওয়ার জন্য একটা ওষুধ, এতেই শতকরা নব্বইজন সেরে যায়। যে দশজন বাকি থাকে, তাদের কথা আলাদা। অবশ্য সংখ্যালঘুদের কথা ভেবে কোন কাজটাই বা হয় এই দেশে?
একটানা কথা বলে লোকটি চুপ করে গেছে। এটাই হয় এইরকম রোগীদের ক্ষেত্রে। এক স্বপ্ন বারবার দেখতে দেখতে তারা সেই স্বপ্ন বানাতেও থাকে। মানে বারবার করে বর্ণনা দিতে দিতে তারা স্বপ্নটাকেও পাল্টে ফেলতে থাকে। বলার ক্ষেত্রে। কারন লোকজন আকছার তাদের জিজ্ঞেস করতে থাকে "এইটুকু? এ আর রোজ দেখলে কি? আমরা ভেবেছিলাম........."। এবার লোকজন কিভাবে বুঝবে, দুঃস্বপ্ন না হলেও এই রোজকার রেকারিং স্বপ্নই এদের কাছে দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়ায়। তাতে আপাতদৃষ্টিতে স্বাভাবিক মানুষও অস্বাভাবিক আচরন করতে থাকে।
"আপনি কবে থেকে এই স্বপ্ন দেখছেন?"
"তা প্রায় তিন মাস।"
"এতদিন পর?"
"প্রথম প্রথম ভেবেছিলাম মামুলি ঘটনা। তারপর আস্তে আস্তে রোজ দেখতে থাকি যখন, তখন ভয় শুরু হয়। তারপর আমার এক বন্ধু আপনার নাম সাজেস্ট করে। অতঃপর......"
"আই সি। আপনি ভেবে দেখুন তো, লোকটাকে চেনেন আপনি? বা জায়গাটা?"
"না। লোকটার মুখ দেখতে পাইনি। কোনোদিন না। এমনকি পরের দিকে, যখন বুঝতে পারতাম এটা স্বপ্ন, তখনো তার সামনে যেতে পারতাম না।"
"কিচ্ছু চেনা না? জায়গাটার কোনো ডিটেল? লোকটার দাঁড়ানোর ভঙ্গি?"
"বিশ্বাস করুন, কিচ্ছু না।"
"আপনি এক কাজ করুন। আগামী এক সপ্তাহ এই ওষুধগুলো খান, যেগুলো লিখে দিচ্ছি। একটা ঘুমের ওষুধ দিচ্ছি। দেখুন। এক সপ্তাহ পর দেখা করবেন।"
আধঘণ্টার উপর দাঁড়িয়ে আছি। সামনে এন আর এস হাসপাতাল, তাই এই ওষুধের দোকানটায় মারাত্মক ভিড়। এদিকে আমার দেরি হয়ে যাচ্ছে। আজ রাতে আমার ডুয়ারস যাওয়ার কথা। ওষুধগুলো কিনতেই হবে। কারন এই ওষুধগুলো আমার স্ত্রীর জন্য। আমরা বহুদিন পর কোথাও যাওয়ার ছুটি পেয়েছি। শ্রীরূপা কম কথা শোনায়নি। এবার এখানে আটকে পড়লে......
একটা ঝামেলার আওয়াজে সম্বিত ফিরলো। লাইনের সামনের লোকটাকে কাউন্টার থেকে ওষুধ দিচ্ছে না।
"প্রেসক্রিপশন ছাড়া এই ওষুধ দেওয়া যায় না।"
"দয়া করে দিন। আমার প্রেসক্রিপশন হারিয়ে গেছে। ডাক্তারবাবু এক সপ্তাহ খেতে বলেছেন। আমার ঘুম হবে না এটা না খেলে।"
"বললাম তো, এত হেভি ডোজের ঘুমের ওষুধ দিতে পারবো না।"
"আরে আমার খেয়াল আছে কি লিখেছিলেন উনি......"
শ্রীরূপার ঘুমন্ত মুখের দিকে তাকালাম। ঘুমোলে কি নিষ্পাপ দেখায় ওকে।
বাংলোটা বেশ। শুধু একদিকে খাড়া খাদ। ওখানে আগে বেশ কয়েকটা দুর্ঘটনা হয়েছে। এটা আগেরবার এসে জেনেছিলাম। আগেরবার মানে বছর কুড়ি আগে, যখন আমার বয়েস পনের। সেবার বাবা-মায়ের সাথে এসেছিলাম।
এঁটো থালাবাসনগুলো ধুয়ে রাখলাম। দরকার ছিল।
শ্রীরূপা অঘোরে ঘুমোচ্ছে। ঘুমোবেই। এক মাসের ঘুমের ওষুধ পেটে পড়লে যে কেউ ঘুমোতে বাধ্য।
হ্যাঁ, কাউন্টারের ছেলেটা আমায় কিছু জিজ্ঞেস করেনি। কেন করবে? গতকালের তারিখের প্রেসক্রিপশন, পরের দিন ওষুধ নিচ্ছি, একমাসের, আর কিছু জিজ্ঞেস করে?
শ্রীরূপার খাবারে মেশাতে একটুও অসুবিধে হয়নি। এমনকি খাদে ফেলে দিতেও অসুবিধে হবে না। ওষুধে না মরলেও, এই খাড়া খাদে পড়লে যে কেউ মরবে।
কেন করলাম? ওই, ওথেলো।
ওথেলো রুমাল দেখেছিল। আমি পেয়েছিলাম গন্ধ। ওল্ড স্পাইস আফটারশেভ। অতনু ব্যবহার করে ওটা। জানি। তিনমাস ধরে ওদের মেলামেশা একটু বেশিই চোখে পড়ছিল। এমনকি অফিস পার্টির দিনও আমি ওদের লক্ষ্য করেছিলাম সারাক্ষণ।
ডাক্তারবাবুকে সবটা মিথ্যে বলিনি। তিনমাস। তিনমাস সত্যি ঘুম হয়নি আমার।
এখান থেকে সোজা কলকাতায় ফিরব আমি। দুদিন পর থানায় রিপোর্ট। এমনকি এখানকার ঘর বুক করেছে শ্রীরূপা। আমিই করিয়েছি। এখানে রেজিস্টারে সইটাও ওর। আমায় রিসেপসনের যে দেখেছে, হলপ করে বলতে পারি কলকাতায় গিয়ে দাড়ি কেটে ফেললে আর সানগ্লাস-মাফলার খোলার পর, তার পিতৃদেবও আমায় চিনবেন না।
আজ পূর্ণিমা খেয়াল করিনি। সামনের খোলা জায়গাটায় চাঁদের আলো এসে পড়েছে। পকেট হাতড়ে সিগারেট বের করলাম একটা......

Saturday, August 30, 2014

এলিজি

ফোনটা বাজছে।
বেজেই চলেছে।
দেখলাম, আগুনরূপা কলিং।
কে আগুনরূপা, কার নাম এই বলে সেভ করেছিলাম? এরকম নাম তো হয় না, এরকম নামের কাউকে আমি তো চিনি না। কিন্তু নামটা বড্ড চেনা লাগছে। খুব চেনা। কোথায় শুনেছি? কোনো কবিতায়? না। কবিতা তো আমি লিখি না। ওসব ছন্দ মেলানো বা না মেলানো ন্যাকামো পোষায় নি কোনোদিন। ছন্দ ব্যাপারটা কেমন ঠিক খেয়াল নেই, কিন্তু নিশ্চয়ই খুব খারাপ। কবিতায় শুনেছি হয়তো। কার কবিতা? আমি কি কবিতা পড়তাম আদৌ? কবিতা জিনিসটাও কিরকম ভুলে গেলাম যে! কি হচ্ছে?
ফোনটা এদিকে বেজেই চলেছে। মাথাটা ফেটে যাবে বোধহয় এবার।

দু মাস আগের কথা

- এখানেও এসেছিস?
- কি করতাম? করার মত বাকি কি আছে? তুই বাজে কারনে ঝামেলা করবি, করে বলবি “উই আর ডান”, আমার দিকটা না ভেবে, আমি আসব না কেন?
- আসবি না, আমি বলছি তাই। আমি আর কথা বলতে চাই না। সব কথা, বোঝাপড়া শেষ। তুই যা খুশি বলবি, আর পরদিন ন্যাকাকান্না কেঁদে ভুলিয়ে দিবি, হবে না। আমি পারব না। আর শোন, এখানে আমি ক্লাস করতে আসি। আর ফারদার এখানে আসবি না। আমি বিরক্ত হব।
- ফেরা যায় না? আমার কথাটা ভাব একবার।
- না। আর হয় না। আমি ভালো নেই। খুব হাঁপ ধরে গেছে আমার এই কয়েকমাসে। প্লিজ ছেড়ে দে আমায়।
- আচ্ছা। দরকার হলে ডাকিস। হাত বাড়াস। আমি আছি।
- ন্যাকামো করিস না। বহুবার শুনেছি।
- এটাও ন্যাকামো? তাহলে কিছু বলার নেই। ভালো থাকিস।

দু মাস একদিন আগের কথা।

- আমার সাথে কথা বললেই বাড়ির লোকের গাত্রদাহ হয়? কেন? আমি বেকার বলে? নাকি জেনারেল স্ট্রিমে পড়ি, ফাইভ ফিগার স্যালারি পাবো না বলে?
- আমার ভালো লাগছে না কথা বলতে।
- তা আর ভালো লাগবে কেন? এখন তো অভ্যেস হয়ে গেছে।
- তুই কথা বলার অবস্থায় নেই। রাখছি।
- রাখবি না। শুনতে হবে। আগেও তো প্রেম করতিস। তখন ঝামেলা হত না কেন? আমার বেলাতেই যত.........হ্যালো? হ্যালো? হ্যালো? শুনতে পাচ্ছিস?

চার মাস আগের কথা

- এই কাল আগুনরূপা কবিতাটা পাঠালাম যে? পড়েছিলি?
- হ্যাঁ। প্রবল ন্যাকা।
- তুই কি বুঝিস কবিতার? ন্যাকা? লিখিস তো ওই ছন্দ মিলিয়ে মিলিয়ে কবিতা। বুঝিস?
- না। যত বুঝিস তুই। আমার লেখা কে পড়ে?
- আমি পড়ি। বলেছি তো, দশ বছর, তার মধ্যে আনন্দ পাচ্ছিস।
- মানে?
- আনন্দ পুরস্কার। পাবিই। বেশ লিখিস। লেখার হাত ভালো। হাতের লেখা আরেকটু ভালো হলেই.........
- হাতের লেখা খারাপ আমার?
- বালাই ষাট! খালি আগের দিনের লেখাটা ওষুধের দোকানে নিয়ে গিয়ে পড়াতে হয়েছিল।

দু ঘণ্টা আগের কথা

বুঝতে পারছি না কি হয়েছে আমার। মানে গত দু মাস আমি কি করেছি, বা তার আগেও...দু মাস কতটা সময় খেয়াল নেই যদিও, দু বছর হতে পারে...না না দু বছর আগে তো আরেকজন ছিল...এটা তো...খেয়াল পড়ছে না কতদিন...ধুর কি যে হচ্ছে আমার...আজ লোকজন জিজ্ঞেস করলো দু মাস কলেজ আসছি না কেন, তাই বুঝলাম দু মাসের হিসেব নেই আমার। দু মাস? সবাই আমার সাথে নিশ্চয়ই প্র্যাকটিকাল জোক করছে। দু মাস? গতকালই তো এলাম, কাল রাতেই তো...কি যেন একটা হল রাতে? কিচ্ছু খেয়াল পড়ছে না কেন?

এক ঘণ্টা আগের কথা

আমি আর পারছি না। মা বলল আমি নাকি গত দু মাস ঠিকমত খাইনি, ঘুমোইনি। এই দু মাসের হিসেব আমায় পাগল করে দেবে। সব্বাই কি শুরু করেছে? এত নিষ্ঠুর মজা করছে কেন এরা?

আজ রাতে কি খেলাম খেয়াল নেই। মুখে স্বাদ লেগে নেই।
হাত শুঁকলাম। কোনো গন্ধ পেলাম না। সিগারেট ধরালাম। মাথা ব্যাথা করছে। আশ্চর্য! এখানেও ভেজাল নাকি? গন্ধ পাচ্ছি না কেন? নিকোটিনের চেনা গন্ধ?

এখন, বর্তমান

ফোনটা বাজছে।
বেজেই চলেছে।
দেখলাম, আগুনরূপা কলিং।
কে আগুনরূপা, কার নাম এই বলে সেভ করেছিলাম? এরকম নাম তো হয় না, এরকম নামের কাউকে আমি তো চিনি না। কিন্তু নামটা বড্ড চেনা লাগছে। খুব চেনা। কোথায় শুনেছি? কোনো কবিতায়? না। কবিতা তো আমি লিখি না। ওসব ছন্দ মেলানো বা না মেলানো ন্যাকামো পোষায় নি কোনোদিন। ছন্দ ব্যাপারটা কেমন ঠিক খেয়াল নেই, কিন্তু নিশ্চয়ই খুব খারাপ। কবিতায় শুনেছি হয়তো, কার কবিতা? আমি কি কবিতা পড়তাম আদৌ? কবিতা জিনিসটাও কিরকম ভুলে গেলাম যে! কি হচ্ছে?
ফোনটা এদিকে বেজেই চলেছে। মাথাটা ফেটে যাবে বোধহয় এবার।
আকাশের দিকে তাকালাম। চাঁদ নেই। ঘুটঘুটে অন্ধকারে কয়েকটা তারা তাকিয়ে আছে। অমাবস্যা আজকেই হতে হল?
হঠাৎ চাবুকের মত একটা জিনিস আঘাত করল। আজ বিকেলেই তো মা কে শাঁখ বাজাতে শুনলাম। আশেপাশের সবকটা বাড়িতে শাঁখ বেজেছিল। এখানে মাসে একদিনই সব বাড়িতে শাঁখ বাজে।
পূর্ণিমার দিন।
সেই বিকেল থেকে একটাও শব্দ শুনিনি। ফোনটাও এসেছে বুঝলাম ভাইব্রেট করছিল বলে।
আমি তো ফোন সাইলেন্ট করি না।
ফোনটা দেখলাম। না। সাইলেন্ট নয়।
ছাদে শুয়ে আছি অনেকক্ষণ। জানি না, কি হয়েছে আমার।
ফোনটা বাজছে। আবার। ধরবো। হাতে জোর নেই কোনো।
আকাশের দিকে তাকালাম আরেকবার।
নিকষ কালো আকাশে একটা একটা করে তারা নিভে যাচ্ছে।

Saturday, April 26, 2014

ভ্যালেন্টাইনস ডে বিষয়ক একটি কবিতা

চারদিক তোলপাড়
ঝিলপাড়, ঝোপঝাড়,
পুলিশের পোয়াবারো একুশে আইন।

মুখে লাজ, পেটে খিদে,
আজ সালা নাকি ভি-ডে,
প্রতিবার ক্যানো আসো, হে ভ্যালেন্টাইন?

ঈশ্বর ও (ক্রিকেট) প্রেমিকের সংলাপ

আমি এখন আর সেই লাল জামাটা পরে খেলা দেখতে বসি না। মানে এখন তো আর খেলা দেখিই না। আপনি খেলা ছাড়ার পর।

একতলার ঘরের যে জায়গাটায় বসে অসহ্য পিঠ ব্যাথা নিয়েও ২০১১ বিশ্বকাপ গোটাটা দেখেছিলাম, সেখানে তো এখন আর বসতেও ইচ্ছে হয় না।

ফিজিক্স টিউশন পড়তে গিয়ে স্যারকে ম্যানেজ করে খেলা দেখেছিলাম। জাস্ট আপনার ২০০ করা দেখব বলে।

কেউ বাড়ি ঢুকলে, চ্যানেল পাল্টে দিয়ে থাকলে, বা প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিয়ে জায়গা পাল্টানোর পরকাকতালীয় ভাবে এক আধবার উইকেট পড়েছে আপনার। তাদের উপর যে কি কি আছড়ে পড়েছিল, জেনে নেবেন।

আমি বাঙালি, আপনি মারাঠি।
তাও আপনার ফ্যান হওয়ার মধ্যে দিয়েই আমার "কমিউনাল হারমনি" বিষয়ক শিক্ষার সুত্রপাত। মানে আমি তো তাই বলেই আমার এই মারাঠি প্রীতি জাস্টিফাই করতাম। এখন আর করতেও হয় না।

আগেও বলেছি, কেবলমাত্র আপনার জন্য আমি সারা তেন্ডুলকর এর প্রেমে পড়ে গিয়েছিলাম। আনন্দমেলার দিব্যি, বাজে কথা না এটা। মা কে "ও তো মারাঠি হলেও ব্রাহ্মণ" এসব সেন্টিমেন্ট দিয়ে প্রায় ম্যানেজ করেও নিয়েছিলাম। বেকার কথা বলবেন না। প্রেমে পড়লে মানুষ কাজ মেটানোর জন্য অনেক রিগ্রেসিভ যুক্তি দেয়। সেখানে আমার এই যুক্তি তো নিরামিষ।

বলছি ও স্যার, আরেকবার নামুন না মাঠে। মাইরি বলছি, সিগারেট ছেড়ে দেবো নাহয়, পোস্ট গ্র্যাজুয়েট এর সবকটা ক্লাস করার চেষ্টাও করব। একবার প্লিজ নামুন মাঠে, আর একবার হলেও? আরে আমাদের কি আর সুপারম্যান-স্পাইডারম্যান ছিল সেভাবে? আপনি ছিলেন আমার, আমাদের মত অনেকের সুপারহিরো।

রিটায়ার করেছেন বুঝলাম। কিন্তু আপনি তো ঈশ্বর। সরকারি সদাগরি অফিসের কনিষ্ঠ কেরানী তো নন, আপনি অন্তত ফিরে আসুন? একবার?

যাকগে, জন্মদিনের শুভেচ্ছা নেবেন। আমাদের জেনারেশনকে অনেকেই তো গালাগাল দেয়, কারনে বা অকারনে, কিন্তু হাজার গালাগাল দিলেও আমরা বুক বাজিয়ে বলতে পারব, আপনাকে দেখে বড় হয়েছি, এক বাতাসে শ্বাসপ্রশ্বাস নিয়েছি।

আমি ঈশ্বরকে দেখেছি। তিনি বেঁটেখাটো, দৃঢ়প্রত্যয়ী। ভারতের হয়ে খেলতেন না, ক্রিকেটের হয়ে খেলতেন।

ভালো থাকবেন স্যার।

Sunday, March 2, 2014

পেজ থ্রি-র এপিটাফ

আজকাল কোনো সেলিব্রিটি শান্তিতে মরতেও পারছেন না। এমনকি মরেও শান্তি পাচ্ছেন না। লাশ-টি পড়ল কি পড়ল না, মিডিয়া দৌড়ে এলো, ওইসব বিরাট ডাণ্ডা-চোঙা নিয়ে। আর "If media comes, can celebrities be far behind?", সুতরাং পেজ থ্রি লোকজন সাজুগুজু করে চোখে গ্লিসারিন ঢেলে ইতিউতি মুখ দেখাতে ব্যস্ত। সে ঠিকাছে, ওইটা তাদের রুজিরুটি, ওইসব তাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে বোধহয়, বা তারা সবাই ওই মৃত/মৃতার শুভাকাঙ্ক্ষী, দেখতে এসেছেন বৈতরণীর পানসি যে চালায় সে হারামজাদা ভোগা দিয়ে বেশি ভাড়া চাইল কিনা (হ্যাঁ, আমার দৃঢ় বিশ্বাস এই যে এইসব লোকজনের দৃঢ় বিশ্বাস তাদের ঠকানোর জন্য সব গরিব জোট বেঁধেছে। সে যাকগে), বা হয়ত পরের দিন শুটিং এ স্বামীপ্রবরটি সপ্তমবার মারা যেতে চলেছেন, তার নেট প্র্যাকটিস। অনেককিছু হতে পারে।

কিন্তু এসব আগেও ছিল, এখনও আছে, এবং থাকবেও।

একটা নতুন জিনিস আজকাল দেখছি। লাশ পরার দিন(যদি রাত ৯টা-১১টা, এই সময় খবর আসে, কারন ওইসময় ফেসবুক-এ সবথেকে বেশি লোক থাকে) বা পরের দিন(সময় বলা নিষ্প্রয়োজন,১১টার পর, যখন আপনি খেয়ে আঁচিয়ে দাঁত খোঁচাচ্ছেন তখন থেকে পরের দিন দাঁত মাজা অবধি যেকোনো সময়) ফেসবুক দুরকম আপডেট এ ভর্তি।

প্রথমত, ও দাদা/দিদি তুমি কোথায় গেলে গো! এই সোনার সংসার তুমি কার হাতে ছেড়ে গেলে গো! আমরা তোমায় ভুলি নি, ভুলবো না! তারপর তার সিনেমার এক কলি গান, দু কলি ডায়ালগ, তিনখানা ছবি, চারখানা কাব্যি এইসব দিয়ে তৈরি একটা জিনিস।

দ্বিতীয়ত, দাদা/দিদি গেছেন তো কি হল? রোজ কিছু লোক মরছে। এরা সালা পেটিবুর্জোয়া, এদের মরাই উচিত-এইসব মন্তব্য এবং তার মাঝে নুন-গোলমরিচ এর মতো ছড়িয়ে দেওয়া "নির্ভয়া-কামদুনি-মধ্যমগ্রাম" এইসব নাম।

মানে কেউ মারা গেলে হয় তাকে নিয়ে আদিখ্যেতা হবে, নয়তো তার মারা যাওয়াকে আরেকটা দূরদূরান্ত অবধি সম্পর্ক নেই এমন একটা জিনিসের সাথে জুড়ে গাল পাড়া হবে। ব্যাপারটা খানিক ওই "চন্দ্রের আকর্ষণে জোয়ার-ভাঁটা হইলে রামকান্তের জজিয়তি হইবে না কেন?" মার্কা হয়ে পড়ছে।

কে জানে আমার আজকাল ক্যানো এইসব মনে হয় সারাক্ষণ! যাকগে, দেখি আজ কোনো লাশ পড়ল কি না। রাত্তিরবেলা আপডেট দেবোখন।

সিরিয়াল কিলার

বহুদিন পর সরস্বতী পুজোর দিন বাড়িতে থাকার সুবাদে একটা মেগা-সিরিয়াল আবার একদিন দেখলাম।
এবার দেখে আমার তো সসেমিরা অবস্থা। ক্যানো, সেটা বলি। 

সিরিয়ালঃ ইষ্টিকুটুম (সরকারি নাম) / বাহা (চরিত্র, টিভিরূঢ়ার্থে মেগার নাম। আমার মা এই বলে ডাকে সিরিয়ালটাকে) / ওই তো, নায়কের দুটো বিয়ে, নায়িকা গ্রামে থাকে, শহরে নায়কের আরেকটা বৌ (আমার কাছে ৩৫ টা মেগার সংক্ষিপ্ত পরিচয়। এটা তার একটা। মানে আমি এই বলে ডাকি সিরিয়ালটাকে)

এবার এই সিরিয়াল টা সেরা ক্যানো সেটা বলি।

নায়ক শহরে থাকে। একটা বৌ আছে।

বিয়েঃ নায়ক-১, নায়কের বৌ-১

এবার কোন একটা গ্রামে গিয়ে নায়কের এক গাঁয়ের মেয়ের সাথে বিয়ে। সে জানে না শহুরে আদবকায়দা। ফিমেল টারজান প্রায়।

বিয়েঃ নায়ক-২, নায়কের বৌ-১, ফিমেল টারজান-১

এবার কেলো। নায়ক আর ফিমেল টারজানের মাঝে বিয়ে করা বৌ আসছে। অতএব ডিভোর্স। ডিভোর্স হলেই উকিল, আর ইফ উকিল কামস, ক্যান কোকিল বি ফার বিহাইন্ড? সুতরাং উকিল আর বৌ (বিয়ে করা মহিলার সাথে, ওই টারজান-এর সাথে না।) এর মাখামাখি। বিয়ে।

বিয়েঃ নায়ক-২, নায়কের বৌ-২, ফিমেল টারজান-১, উকিল-১

এবার ফ্লাশব্যাক।

ফিমেল টারজানের মা-এর সাথে ওই বৌ-এর বাপের চক্কর ছিল। সেই হিসেবে ফিমেল টারজান আর বৌ-এরা আবার দুই বোন।

বিয়েঃ নায়ক-২, নায়কের বৌ-২, ফিমেল টারজান-১, উকিল-১, ফিমেল টারজানের মা-১, বৌ-এর বাপ-১

এবার ফিমেল টারজানের মা আরেকটা বিয়ে করেছে। বৌ এর বাপও তাই।

বিয়েঃ নায়ক-২, নায়কের বৌ-২, ফিমেল টারজান-১, উকিল-১, ফিমেল টারজানের মা-২, বৌ-এর বাপ-২

এবার নায়কের কাকা এক মহিলাকে বিয়ে করেছেন, কিন্তু সেই কাকার আগে একটি বিয়ে ছিল। এবার নায়কের কাকা বিয়ে করেছেন আরেকটি মহিলা কে।

বিয়েঃ নায়ক-২, নায়কের বৌ-২, ফিমেল টারজান-১, উকিল-১, ফিমেল টারজানের মা-২, বৌ-এর বাপ-২, নায়কের কাকা-২, নায়কের কাকিমা-১

এবার, সেই উকিল আর এই বৌ-এদের দুজনের বিয়ের দিন উকিলের আগের এক বৌ এসে উপস্থিত।

বিয়েঃ নায়ক-২, নায়কের বৌ-২, ফিমেল টারজান-১, উকিল-২, ফিমেল টারজানের মা-২, বৌ-এর বাপ-২, নায়কের কাকা-২, নায়কের কাকিমা-১, উকিলের বৌ-১

এর পর আর হিসেব রাখতে পারলাম না। উঠে আসলাম।

"বলাই" বাহুল্য !

আমার পাশের পাড়ায় একটা গাছ কাটা হয়েছে আজ।

ভালো লাগলো না ব্যাপারটা। মন খারাপ ঠিক না, কিন্তু ওই আর কি।
আমি সুভাষ দত্ত নই। বইমেলা বাইপাসে গিয়ে আমার খুব অসুবিধা হয়েছে। কিন্তু ওই গাছটার কেস আলাদা।

ঠিক গাছ না। ওই একটা লতানো ব্যাপার। কিন্তু না কাটতে কাটতে সেটা প্রায় মহীরূহ হওয়ার দিকে পা বাড়িয়েছিল। সম্ভবত সেইজন্যেই "অতি দর্পে হত লঙ্কা......"

গাছ নিয়ে আসল সেন্টিমেন্ট না। সেন্টিমেন্ট ছিল ওই গাছে ঢাকা ব্যালকনিটার ওপর।
ব্যালকনিটার একপাশ দিয়ে ওই গাছটা নেমেছিল/উঠেছিল। তাই রাস্তার ওই পাশ দিয়ে হাঁটার সময় সামনে না এলে ব্যালকনিটা দ্যাখা যেত না।

আমি প্রথমবার মোবাইল নম্বর নিয়েছিলাম ওই ব্যালকনির তলায় দাঁড়িয়ে। ইশারায়।
কারন ভয় তো ছিলই, কিন্তু আসল কারন, ওর গলা দিয়ে সেদিন কোনো আওয়াজ বেরচ্ছিল না। হতচ্ছাড়া টনসিলের ঝামেলা হবি তো হ, সেইসময়ই হয়েছিল। নিজের নম্বর দিতে পারিনি, কারন তখন নিজের ফোন ছিল না।

আর ঝামেলাও কম হয়নি গাছটার জন্য। টিউশন পড়ে বেরিয়ে ফোন করেছি, ব্যালকনিতে আসতে, ঠিক ব্যালকনির সামনে এসে সেই অলৌকিক একগাল হাসি (আগের সারারাত আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে প্র্যাকটিস করা) নিয়ে উপরে তাকিয়েছি, দেখি ওর মা দাঁড়িয়ে ব্যালকনিতে। বেকায়দার চূড়ান্ত। কতবার তাই এই হতচ্ছাড়া গাছটার মৃত্যুকামনা করেছি তখন।

আজ সেটা হল। এতদিন পর। কিন্তু ভালো লাগলো না ব্যাপারটা।

ব্যালকনিবাসিনী আগেই গিয়েছিলেন। এবার সেই চেনা ব্যালকনির ছবিটাও পাল্টে গ্যালো আজ থেকে।

হতচ্ছাড়া গাছটা বেঁচে থেকে কম জ্বালায়নি।
মরে গিয়েও সে স্বভাব গ্যালো না হারামজাদার।

ফিল্ম সমালোচনাঃ অভিশপ্ত নাইটি

এমনিতেই বাংলা ভাষায় সাহসী পরিচালকেরা আজকাল সাদা বাঘের মত দুর্লভ হয়ে পড়েছেন। সেখানে আজকাল বাংলা সিনেমা দেখতে গেলে খুব একটা আশা নিয়ে আর হলে যেতাম না। এবার অভিশপ্ত নাইটি সিনেমাটার উপরও খুব একটা আশা নিয়ে দেখতে যাই নি। কিন্তু হলে গিয়ে আশাহত হলাম না।

বাঙালি মধ্যবিত্ত পিউরিটান সমাজ যে তথাকথিত মূল্যবোধ ইত্যাদির কথা সকালে ইসবগুলের সাথে গুলে খায়, সেই সমাজের প্রতিনিধিরা নাক সিটকেছেন সিনেমার নাম শুনেই। মানে ওই নামের সিনেমা কি করে কোনো ভদ্রসন্তান দেখতে যায়, এই প্রশ্ন বারবার শুনছি চারদিকে।
তাদের উদ্দেশ্যে, দাদা, হলে যান, দেখে আসুন, শুধুমাত্র আপনাদের এই মাইন্ডসেট কে যাচ্ছেতাই ভাবে নেড়ে-ঘেঁটে দুমড়ে মুচড়ে ধাক্কা দিতে একটা গোটা সিনেমা তৈরি করা হয়েছে। দেখুন, আর নিজেকে, নিজের বাপ-দাদাকে খিস্তি দিন, সোসাইটিকে খিস্তি দিন। পরিচালক সেইসব দগদগে ক্ষতগুলো আঙুল দিয়ে দেখিয়েছেন, বাকিদের মতো সেখানে ন্যাকামোর অ্যান্টিসেপ্টিক ঢালতে যাননি।

আমি কিছুদিন আগে, যখন আমার মোট দেখা সিনেমার সংখ্যা ছিল পঞ্চাশ, তখন ভাবতাম সিনেমা তৈরির জন্য এক এবং একমাত্র যেটা দরকার, সেটা হল একটা নিটোল গল্প। এবার আপনি সেই ভাবনার লেভেলে থাকলে এই সিনেমাটা দেখতে যাবেন না। কারন গল্প খুঁজতে গেলে এখানে হতাশ হবেন। এখানে সেরকম কোনো গল্প বা গল্পের কাঠামো নেই।

এবার গল্প নেই যখন, কি দেখবেন?
দেখবেন একটা অসামান্য স্ক্রিপ্ট। এক পরিচালকের সাহস। এক ঝকঝকে নতুন ধারার সিনেমা। চোখা সংলাপ। এবং, আমার মতে, বাংলা ভাষায় হওয়া প্রথম "সার্থক" ব্ল্যাক কমেডি ফিল্ম এইটা।
এসব যদি নাও দেখেন, কিছু অসামান্য চরিত্রাভিনেতার অভিনয় দেখবেন। একটা টানটান স্ক্রিপ্ট পেলে আজও স্ক্রিনে সোনা ফলাবার লোক যে আমাদের টলিউডেই রয়েছেন, অন্তত এই বিশ্বাস নিয়ে হল থেকে বেরোবেন।

এবার কয়েকটা জায়গা আলাদা করে বলার দাবী রাখে।

ক্যানো সিনেমার এই নাম? সেটার জন্য হলে যান। হ্যাঁ, সিনেমায় খুন, ভূত, পুনর্জন্ম এইসব রয়েছে, কিন্তু তাও পরিচালক অশেষ সংযম দেখিয়ে এটাকে ভূতের ছবি বানিয়ে ফেলেননি। চেনা ছক ভাঙার সাহস সবার থাকে না। পরিচালক দেখিয়েছেন।

এবার সিনেমাঃ এক নাইটি আছে, যেটা পরলে মহিলাদের (যেহেতু নাইটি, তাই কেবল মহিলা। অন্য কোনো পুরুষতান্ত্রিক অ্যাঙ্গেল নেই।) অবদমিত সব চাহিদা (যৌন) মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। এবার সেই নাইটি হাতবদল হতে থাকে ও সেই নিয়েই সিনেমা এগোয়।
এই প্রথম বাংলা সিনেমায় মানুষের আদিম প্রবৃত্তিগুলো দেখানো হল এমন একটা ফর্ম এ, যেটা ধরাছোঁয়া যায়। অর্থাৎ সেটাই ওই নাইটি। স্পাইডারম্যান ৩ তে যেমন পাপ কে দেখানো হয়েছিল তার ফিজিক্যাল ফর্ম এ, কালচে থকথকে "ভেনম" হিসেবে, এখানেও তেমনই সেটা একটা গোলাপি নাইটি। কিন্তু সেটা আদৌ অভিশপ্ত, নাকি এই সমাজটাই আসলে অভিশপ্ত, সে কথা আপনার মনে হবেই সিনেমাটা দেখতে দেখতে।

এবার গোটা সিনেমাটাই কি দারুণ? আজ্ঞে না, সবটা না। কিছু দুর্বল জায়গা আছেই। একটা প্রপার গল্পের অভাবে খানিক ধৈর্য হারিয়ে ফেলতে পারেন। তাছাড়া যেহেতু ব্যাপারটা বেশ খানিক "মডার্ন ডে ফেবল" ধরনে বলা, যুক্তির খোঁজ করবেন যারা, তারা হতাশ হবেন। পাওলি দামের অভিনয়, মানে ওই যেটুকু সময় ছিলেন, দুর্বলতম জায়গা। পরমব্রতও আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন ঝোলানোর। ইন্দ্রনীল এতদিন পরেও খালি " সুন্দর মুখের জয় সর্বত্র "-এই কথাটার ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডার হয়েই থেকে গেলেন। কিন্তু এগুলোর পরেও ওই একটা টানটান স্ক্রিপ্ট সব অভাব না হলেও নব্বই শতাংশ ঢেকে দিয়েছে। বিশেষ করে মনে থাকবে রবি ঠাকুর ঘটিত দৃশ্যগুলো। বাঙালির মত এরকম সাংস্কৃতিক মৌলবাদী জাতের সামনে এইরকম লোপ্পা বল দেওয়ার সাহস সবার থাকে না। পরিচালক দেখিয়েছেন।

আর সেন্সর বোর্ড সংক্রান্ত দৃশ্যগুলো করে আমাদের গালে থাপ্পড় মারবার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ।

বিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ এই রিভিউ পড়ে সিনেমা দেখতে গিয়ে সেটা ভালো না লাগলে আমার থেকে পয়সা চাইবেন না। কে বলেছে আপনাকে আমার কথায় নাচতে?

পুনশ্চঃ এই সিনেমায় দেব কে দারুণ লেগেছে। মানে তুলনামূলক কম অসহ্য আর কি।

হি-ভ্যালরি

আজ একটা কাজে দিদির বাড়ি কামারহাটি যেতে হয়েছিল। কাজ বলতে ওই ইন্সিওরেন্সের টাকা দিতে গেছিলাম। ইন্সিওরেন্স নিয়ে আরেকদিন বড় করে লিখব। কিভাবে আমার বাবা-মা-আমি নিজে মরে গিয়ে নাকের বদলে নরুন পেয়ে বড়লোক হব, তাই নিয়ে একটা লেখা(noun) লেখা(verb) যেতেই পারে।

কিন্তু আজ অন্য জিনিস নিয়ে লিখব।
ফেরার সময় বাসস্ট্যান্ড থেকেই বাসে ওঠার কথা আমার। তাও আমি তাড়া ছিল বলে একটা ভিড় বাসেই উঠলাম। পরের বাসে উঠতেই পারতাম(অবশ্য সব বাসই "পরের বাস" আমার কাছে। নিজের বাস তো আর হল না এ জন্মে), তাও এটাতেই উঠলাম।

ডানলপ এসেছি। জায়গা জোটেনি। এবার দেখলাম, ভিড় বাসে লেডিস সিটের সামনে এক মাঝবয়েসী লোক দাঁড়িয়ে। তখন অবধি জানতাম না, উনি কেবলমাত্র লোক। মানে লোক শব্দটার আগে যে Prefix টা আমরা বাঙালিরা সচরাচর ব্যবহার করি, ওনাকে প্রথমে তাই ভেবেছিলাম। পরে দেখলাম, উনি আদপেও সেটা নন।

ক্যানো? কারন দেখলাম, উনি সিটের ধারে বসা মেয়েটাকে(হ্যাঁ, মেয়ে, প্রায় আমাদের বয়সী) বিরক্ত করছেন। মানে কেউ কিছু explicit করছেন বা বলছেন না, কিন্তু মেয়েটার মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে তার অস্বস্তি হচ্ছে।

ব্যাস। জেগে উঠলো chivalry। এবার যেহেতু দুজনেই চুপচাপ, তাই বীর হতে গেলে কেস ঘুরে যেতে পারে। একবার চন্দ্রিলের একটা লেখা পড়েছিলাম, "বাঘ, ঘোগ ও চোখভোগ" বলে। সেই টোটকা ব্যবহার করা যেতে পারে, একটু মডিফাই করে, এই ভেবে এগোলাম।

ওই লোকটার কাছে দাঁড়ালাম, এক্কেবারে গা ঘেঁষে। তারপর direct জয় নিতাই হয়ে গেলাম(মানে মালটার কানের পাশ দিয়ে হাত তুলে রড ধরলাম)।
ব্যাস। তারপর শুরু হয়ে গ্যালো ডজ-ড্রিবল-ট্যাকল। তিনি বামপন্থী(বাঁ দিকে ঝুল খাচ্ছেন) তো আমি ডানপন্থী। বা তিনি প্রতিক্রিয়াশীল হলে আমি উগ্রপন্থী। এক আধবার ফাউল হল।
-"ব্যাগ সামনে নাও"
-"সামনে নিলে কি কম জায়গা লাগবে?"
-"আমার গুঁতো লাগছে"
-"আমারও লাগছে। আমি কি আপনাকে বলছি ডান হাত খুলে অন্য জায়গায় রাখতে?"

ইতিমধ্যে শ্যামবাজার এসে গ্যালো। মেয়েটি একবার আমার দিকে তাকিয়ে হেসে নেমে গ্যালো।

এটা নিয়ে অনায়াসে একটা মিষ্টি প্রেমের সিনেমা হতেই পারে। Starring হুমা খুরেশি।

শেষটা যদিও বিয়োগান্তক। এবং জঘন্য।
কারন ওই লোকটা মেয়েটার ছেড়ে যাওয়া সিটেই বসল।
আমি গোটা রাস্তাটা দাঁড়িয়ে এলাম।

কোনো মানে হয় !