Saturday, April 26, 2014

ঈশ্বর ও (ক্রিকেট) প্রেমিকের সংলাপ

আমি এখন আর সেই লাল জামাটা পরে খেলা দেখতে বসি না। মানে এখন তো আর খেলা দেখিই না। আপনি খেলা ছাড়ার পর।

একতলার ঘরের যে জায়গাটায় বসে অসহ্য পিঠ ব্যাথা নিয়েও ২০১১ বিশ্বকাপ গোটাটা দেখেছিলাম, সেখানে তো এখন আর বসতেও ইচ্ছে হয় না।

ফিজিক্স টিউশন পড়তে গিয়ে স্যারকে ম্যানেজ করে খেলা দেখেছিলাম। জাস্ট আপনার ২০০ করা দেখব বলে।

কেউ বাড়ি ঢুকলে, চ্যানেল পাল্টে দিয়ে থাকলে, বা প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিয়ে জায়গা পাল্টানোর পরকাকতালীয় ভাবে এক আধবার উইকেট পড়েছে আপনার। তাদের উপর যে কি কি আছড়ে পড়েছিল, জেনে নেবেন।

আমি বাঙালি, আপনি মারাঠি।
তাও আপনার ফ্যান হওয়ার মধ্যে দিয়েই আমার "কমিউনাল হারমনি" বিষয়ক শিক্ষার সুত্রপাত। মানে আমি তো তাই বলেই আমার এই মারাঠি প্রীতি জাস্টিফাই করতাম। এখন আর করতেও হয় না।

আগেও বলেছি, কেবলমাত্র আপনার জন্য আমি সারা তেন্ডুলকর এর প্রেমে পড়ে গিয়েছিলাম। আনন্দমেলার দিব্যি, বাজে কথা না এটা। মা কে "ও তো মারাঠি হলেও ব্রাহ্মণ" এসব সেন্টিমেন্ট দিয়ে প্রায় ম্যানেজ করেও নিয়েছিলাম। বেকার কথা বলবেন না। প্রেমে পড়লে মানুষ কাজ মেটানোর জন্য অনেক রিগ্রেসিভ যুক্তি দেয়। সেখানে আমার এই যুক্তি তো নিরামিষ।

বলছি ও স্যার, আরেকবার নামুন না মাঠে। মাইরি বলছি, সিগারেট ছেড়ে দেবো নাহয়, পোস্ট গ্র্যাজুয়েট এর সবকটা ক্লাস করার চেষ্টাও করব। একবার প্লিজ নামুন মাঠে, আর একবার হলেও? আরে আমাদের কি আর সুপারম্যান-স্পাইডারম্যান ছিল সেভাবে? আপনি ছিলেন আমার, আমাদের মত অনেকের সুপারহিরো।

রিটায়ার করেছেন বুঝলাম। কিন্তু আপনি তো ঈশ্বর। সরকারি সদাগরি অফিসের কনিষ্ঠ কেরানী তো নন, আপনি অন্তত ফিরে আসুন? একবার?

যাকগে, জন্মদিনের শুভেচ্ছা নেবেন। আমাদের জেনারেশনকে অনেকেই তো গালাগাল দেয়, কারনে বা অকারনে, কিন্তু হাজার গালাগাল দিলেও আমরা বুক বাজিয়ে বলতে পারব, আপনাকে দেখে বড় হয়েছি, এক বাতাসে শ্বাসপ্রশ্বাস নিয়েছি।

আমি ঈশ্বরকে দেখেছি। তিনি বেঁটেখাটো, দৃঢ়প্রত্যয়ী। ভারতের হয়ে খেলতেন না, ক্রিকেটের হয়ে খেলতেন।

ভালো থাকবেন স্যার।

No comments:

Post a Comment